Skip to main content

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতি সন্ধ্যায় বৈঠক, তৈরি হতো নীল নকশা, যা জানালো জাতিসংঘের প্রতিবেদন

 সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় প্রতি সন্ধ্যায় বৈঠক, তৈরি হতো নীল নকশা, যা জানালো জাতিসংঘের প্রতিবেদন

ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় প্রতি সন্ধ্যায় ‘কোর কমিটি’ বৈঠকে বসত। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দাসংস্থার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতেন। সেখানেই মূলত আন্দোলন দমনের নীল নকশা তৈরি হতো। এদিকে একপর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন, ভারী অস্ত্রের ব্যবহার হলে সাধারণ আন্দোলনকারীরা ভয়ে ঘরে ফিরে যাবেন। কিন্তু তার সেই চেষ্টাও পরে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।


বরং, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ নিহত হলে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘কোর কমিটি’ নামে এক কমিটির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করতেন।


সন্ধ্যায় তার বাসভবনে এই বৈঠক হতো। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক; বিজিবি, র‌্যাব ও আনসার/ভিডিপির সাবেক মহাপরিচালক; ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও এনটিএমসি’র প্রধান এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার। এছাড়া ২০ জুলাই থেকে সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র জেনারেলও অংশ নেন।


পাশাপাশি শেখ হাসিনা এবং তার দপ্তরের বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্দোলন দমনের যোগাযোগ রাখতেন। এতে আরও বলা হয়, গত বছরের ১৪ জুলাই সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি (সাদ্দাম হোসেন) ছাত্রলীগ সমর্থকদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালাতে উসকানি দিয়েএ বিষয়ে একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওএইচসিএইচআরকে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানের ভিত্তিতে ছাত্রলীগ বিক্ষোভকারীদের মুখোমুখি হয়েছিল। কিন্তু যা ঘটেছিল তা অপ্রত্যাশিত ছিল, ছাত্ররা প্রতিহত করে। আরেক সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনে করেছিলেন, যদি তারা তাদের ‘ভারী ইউনিট’ মোতায়েন করে তবে কেবল ‘লড়াকুরাই’ রাস্তায় থাকবে অন্যরা বাড়ি ফিরে যাবে।


ফলে ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ দমনে পুলিশ একপর্যায়ে প্রাণঘাতী ধাতব গুলি ভর্তি শটগান ব্যবহার করে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও ওই সময় সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করে। এতে শুধু ১৬ জুলাই আবু সাঈদসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এর ডাক দিলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে দায়িত্ব দেন।


তবে, সেই পর্যায়ে ছাত্ররা আর আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। কারণ ছাত্রলীগ ও পুলিশি হামলার কারণে তারা সরকারের সৎ বিশ্বাসের ওপর সন্দেহ পোষণ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ জুলাই থেকে সাধারণ জনগণও রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করে। এই পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি প্রাণঘাতী শক্তির দৃষ্টান্তে রূপান্তরিত হয়েছিল। তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে রাইফেল, পিস্তল ও শটগান ব্যবহার করে। অনেক জায়গায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসাসেবাও বাধাগ্রস্ত করে। ওইদিন সন্ধ্যায় সরকার বিজিবিকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ এরপর ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ ঘোষণা করে। সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়েও অস্থিরতা দমন করতে পারেনি তারা। এতে আরও বলা হয়েছে, ১০ জুলাই থেকে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভের সময়, তারা সারা দেশে ১৫টি ব্যাটালিয়নের সবকটি মোতায়েন করেছিল। ১৫ জুলাই থেকে কমপক্ষে ১৪টি আনসার/ভিডিপি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছিল। ১৬ জুলাই থেকে, বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছিল।


সারা দেশে ৫৮টি স্থানে প্রায় ৪,০০০ সীমান্তরক্ষী মোতায়েন ছিল। ওই দিন থেকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ছয়টি সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছিল এবং তারা শটগান ও রাইফেল ব্যবহার করেছিল। তথ্য সংগ্রহের জন্য ডিজিএফআইয়ের প্রায় ১১০ জন কর্মকর্তা এবং ৯০০ জন মাঠকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।দেয়।ছিলেন।

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

সহ' বাস শেষে বী' র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম কি বলে জেনে নিন

 স’হ’বাস শেষে বী’র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম যা বলছে সহবাসের সময় বীর্য স্ত্রীর গর্ভে না রেখে বাইরে ফেলার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির নাম ফিকহের ভাষায় “আজল”। এটি একটি পরিচিত প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় সাহাবিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। ফলে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে এবং বৈধ প্রয়োজনে আজল ব্যবহার করা জায়েয। তবে ইসলামে সন্তান না নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র দারিদ্র্য, জীবিকা অনিশ্চয়তা কিংবা সন্তান পালনের ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের রিজিকের দায়িত্ব আমি (আল্লাহ) নিয়েছি।” তবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হলে, সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বৈধ। এই ক্ষেত্রে আজল, কন্ডমসহ স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা যায়। স্থায়ীভাব...