Skip to main content

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কোথায় রাখা আছে?

 পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র কোথায় রাখা আছে?

জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার জেরে তৈরি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি শহরে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ভারত। জবাবে পাল্টা হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানও। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পাল্টা হামলায় ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান, একটি ড্রোন এবং একটি ব্রিগেড সদর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে।


এদিকে আজ বৃহষ্পতিবার ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের পাঞ্জাব ও গুজরাট, জম্মু-কাশ্মীরসহ দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ১৫টি শহরে সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেদু-পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা বড় ধরণের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা জোরদার করেছে। এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে দু-দেশের হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্র নিয়ে। অনেকে বলছেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছিলেন সেটাই কি এখন বাস্তবে পরিণত হবে?যদি সত্যিই পাকিস্তান এগুলো ব্যবহার করে তাহলে কী হবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। এছাড়া দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কোথায় আছে তা-ও আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ (FAS) জানিয়েছিল, পাকিস্তানের কাছে তখন প্রায় ১৭০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল। অপরদিকে ভারতের কাছে সে সময় ছিল আনুমানিক ১৮০টি অস্ত্র। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তান প্রতি বছর ১৪ থেকে ২৭টি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র তার ভাণ্ডারে সংযুক্ত করছে বলে ধারণা করা হয়।


FAS-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গোপনে সংরক্ষণ করে থাকে, যাতে একযোগে সব অস্ত্র ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি না থাকে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নাম জানা গেছে, যেগুলোতে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত থাকার সম্ভাবনা প্রবল।


১. মাশরুর বিমান ঘাঁটি : এটি করাচির নিকটে অবস্থিত এবং পাকিস্তান বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এখান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মিরাজ-টু এবং মিরাজ-থ্রি যুদ্ধবিমান পরিচালিসর্গোধা (Sargodha) ঘাঁটি : পাঞ্জাব প্রদেশের এই ঘাঁটি পাকিস্তানের স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। এখানে পারমাণবিক ও কৌশলগত অস্ত্র সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলে মনে করা হয়।


৩. কামরা (Kamra) বিমান ঘাঁটি : এটি পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান বিমান নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র। এখানেও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


৪. গজনি ও খুশাব ঘাঁটি : কিছু উপগ্রহচিত্র ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তান এই অঞ্চলে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য গোপন ভূগর্ভস্থ বাংকার নির্মাণ করেছে।


অস্ত্র বহনের মাধ্যম : পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে, যেমন :


ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র : হাতফ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র (Hatf I থেকে Hatf VII পর্যন্ত) পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। এর মধ্যে শাহীন-১ ও শাহীন-২ সর্বাধিক শক্তিযুদ্ধবিমান : মিরাজ-III ও মিরাজ-V বিমান পারমাণবিক অস্ত্র বহনে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও রয়েছে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমান চীন এবং পাকিস্তান যৌথভাবে নির্মাণ করেছে এবং এখন পাকিস্তান নিজেই এটি উৎপাদন করে থাকে।


ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার অস্ত্র : ভারতীয় সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় স্বল্প পাল্লার ট্যাকটিক্যাল অস্ত্র তৈরি করেছে পাকিস্তান, যার মধ্যে রয়েছে NASR (Hatf-IX) ক্ষেপণাস্ত্র।


বিশ্লেষকরা মনে করেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা এখনো মূলত সামরিক বাহিনীর অধীনে রয়েছে এবং বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত। ফলে সংকটকালে হঠাৎ প্রতিক্রিয়াশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।


আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ পাকিস্তানে এখনো একটি বড় হুমকি, যার কারণে পারমাণবিক অস্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আছে।শালী।ত হয়।।

Countdown Timer
00:00

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

সহ' বাস শেষে বী' র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম কি বলে জেনে নিন

 স’হ’বাস শেষে বী’র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম যা বলছে সহবাসের সময় বীর্য স্ত্রীর গর্ভে না রেখে বাইরে ফেলার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির নাম ফিকহের ভাষায় “আজল”। এটি একটি পরিচিত প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় সাহাবিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। ফলে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে এবং বৈধ প্রয়োজনে আজল ব্যবহার করা জায়েয। তবে ইসলামে সন্তান না নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র দারিদ্র্য, জীবিকা অনিশ্চয়তা কিংবা সন্তান পালনের ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের রিজিকের দায়িত্ব আমি (আল্লাহ) নিয়েছি।” তবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হলে, সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বৈধ। এই ক্ষেত্রে আজল, কন্ডমসহ স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা যায়। স্থায়ীভাব...