Skip to main content

স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা: হাসনাত আবদুল্লাহ

 স্বাধীন বাংলাদেশে দুদকের চা খাওয়ার বিল ১ লাখ টাকা: হাসনাত আবদুল্লাহ

নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ একটি ফেসবুক পোস্টে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এমন এক সময় এসেছে, যখন চা খাওয়ার বিল হিসেবেও ১ লাখ টাকা দাবি করছে দুদক।


হাসনাত তার পোস্টে উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তির নামে দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও ‘ক্লিয়ারেন্স’ নেওয়ার জন্য তাকে ১ লাখ টাকা দিতে বলা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘মাহমুদা মিতু’ নামের এক চিকিৎসকের উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি তাকে দুদকের একজন মহাপরিচালক (ডিজি) আকতার এবং এক উপপরিচালক (ডিডি) পরিচয়ে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। ফোনে মিতুকে বলা হয়, “আপনি তো একজন ডাক্তার, আপনার টাকার অভাব হওয়ার কথা না, আপনি এক লাখ টাকা দিয়ে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যান।”


হাসনাত আরও অভিযোগ করেন, দুদকের সর্বনিম্ন ঘুষের হার নাকি ১ লাখ টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই কর্মকর্তা পুনরায় ফোন করে জানতে চান, “টাকা দিবেন কি না?” আর টাকা না দিলে, “খবর করে ছেড়ে দেওয়া হবে”—এমন হুমকিও দেওয়া হয়।


ফেসবুক পোস্টে এনসিপি নেতা আরও দাবি করেন, মাহমুদা মিতু রেড ক্রিসেন্টে যোগ দিয়েছেন ৫ আগস্টের পরে। অথচ দুদক বর্তমানে তদন্ত করছে আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি নিয়ে। হাসনাতের ভাষ্য, “হাস্যকরভাবে তখনকার কর্মকর্তাদের নাম না দিয়ে এখনকার লোকজনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। এখানে বড় অংকের লেনদেনের সম্ভাবনা প্রবল। যারা কিছুই করেননি, তাদের কাছে যদি ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়, তাহলে আগের আমলের দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে কত নেওয়া হয়েছে?”


তিনি বলেন, “দুদকের এসব আচরণ এই প্রথম নয়। হাসিনার আমলে খালেদা জিয়াসহ বহু বিরোধী দলের নেতাদের হয়রানি করেছে দুদক। অথচ আওয়ামী লীগের হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ব্যাপারে তারা চুপ থেকেছে। আমরা আশা করেছিলাম, ৫ আগস্টের পরে এই চিত্র বদলাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখন তারা চা খাওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা চাওয়া শুরু করেছে।”


হাসনাত আবদুল্লাহ আরও দাবি করেন, মাহমুদা মিতু সাহস করে ফোনালাপের ভিডিও করে রেখেছেন এবং ঘুষ দেননি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কত সাধারণ মানুষ এই চায়ের বিল দিতে বাধ্য হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই।


তার ভাষায়, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। মাহমুদা মিতু কেন, আমার নামেও যদি এক পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সেটা প্রকাশ করুন। কাউকে ফোন করার দরকার নেই—দুর্নীতির প্রমাণ পেলে সরাসরি মামলা দিন। আইনের হাতে দিন। কিন্তু নিরীহ মানুষদের কেন চাঁদাবাজির মুখে ফেলছেন? কেন টাকা না দিলেপোস্টের শেষাংশে এনসিপি নেতা বলেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চেয়েছি। হাসিনার রেখে যাওয়া দুর্নীতির পথ যেন কেউ আর অনুসরণ না করে, তাই আমরা চেয়েছিলাম দুদক নতুন রূপে গড়ে উঠুক। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, দুদক পুরনো পথেই হাঁটছে। আমলাতন্ত্র আবার বিষদাঁত বের করে কামড় বসাতে চলেছে। এই বিষদাঁত যদি ভাঙা না যায়, তাহলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নও হেরে যাবে।”


তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমলাদের এক লাখ টাকার চা খাওয়ানোর জন্যই কি জুলাইতে বাংলাদেশের মানুষ জীবন দিয়েছিল?”তার দাবি, এই ঘুষকাণ্ডের বিচার জরুরি, এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ এই দায়মুক্তির সংস্কৃতি ভেঙেই তৈরি করতে হবে। হুমকি দেন?”

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

সহ' বাস শেষে বী' র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম কি বলে জেনে নিন

 স’হ’বাস শেষে বী’র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম যা বলছে সহবাসের সময় বীর্য স্ত্রীর গর্ভে না রেখে বাইরে ফেলার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির নাম ফিকহের ভাষায় “আজল”। এটি একটি পরিচিত প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় সাহাবিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। ফলে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে এবং বৈধ প্রয়োজনে আজল ব্যবহার করা জায়েয। তবে ইসলামে সন্তান না নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র দারিদ্র্য, জীবিকা অনিশ্চয়তা কিংবা সন্তান পালনের ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের রিজিকের দায়িত্ব আমি (আল্লাহ) নিয়েছি।” তবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হলে, সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বৈধ। এই ক্ষেত্রে আজল, কন্ডমসহ স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা যায়। স্থায়ীভাব...