Skip to main content

কেন সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, জানালেন মূলহোতা মহিন

 

রাজধানীর পুরান ঢাকায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে মো. সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে মহিন আদালতকে জানান, ঘটনার দিন মহিনসহ অন্য আসামিরা ব্যবসা ছাড়ার জন্য সোহাগকে শুধু হুমকি দিতে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করা ব্যবসা ছাড়তে নারাজ হন সোহাগ। মহিনদের হুমকিতে ঘটনার দিন সোহাগও ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তার এই ক্ষিপ্ত হওয়ার পরিস্থিতিতেই সোহাগকে হত্যা করেন মহিনসহ অন্য আসামিরা।

গতকাল রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালত আসামি মহিনের এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে মহিন আরও বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের আমল থেকে সোহাগ এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। টিটু, মহিন বিগত সরকারের আমল থেকেই বঞ্চিত ছিল। বিভিন্ন সময় সোহাগ তাদের (মহিন-টিটুসহ অন্য আসামিদের) আওয়ামী লীগের লোকজন দ্বারা মারধরও করেছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর মহিন, টিটু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। ব্যবসা ছাড়ার জন্য সোহাগকে বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকেন। ঘটনার দিনও ব্যবসা ছাড়ার জন্য হুমকি দিতে যান সোহাগকে। পরে সোহাগও ক্ষিপ্ত হয়। এর পরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা। হত্যার পরিকল্পনা না থাকলেও সোহাগের ব্যবহার আসামিদের হত্যায় প্রলুব্ধ করেছে বলে জানান মহিন।এ ছাড়া বিগত সময়ের মারধরের শিকার হওয়ার জন্য সোহাগের লাশের ওপর পৈশাচিক এমন হামলা চালান বলেও স্বীকার করেন এ আসামি। এদিকে বিচারক এ হত্যার মূলহোতা আসামি মহিনের জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল দ্বিতীয় দফার রিমান্ড শেষে মহিনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি মহিন স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে গত ১০ জুলাই প্রথম দফায় পাঁচ দিন ও ১৫ জুলাই দ্বিতীয় দফায় মহিনের আরও পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুনঃ  গোপালগঞ্জে নিহত ৪ জনের নাম-পরিচয় জানা গেল
এ মামলায় গ্রেপ্তার ৯ আসামি হলেন মাহমুদুল হাসান মহিন, টিটু গাজী, মো. আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, তারেক রহমান রবিন, সজীব ব্যাপারী, মো. রাজিব ব্যাপারী, নান্নু কাজী ও রিজওয়ান উদ্দীন ওরফে অভিজিৎ বসু। তাদের মধ্যে গত ১৭ জুলাই লম্বা মনির, আলমগীর ও টিটন এবং ১৯ জুলাই আসামি সজীব আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া রিমান্ড শেষে রাজিব কারাগারে আটক রয়েছেন।মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গেটের কাছে ৩৯ বছর বয়সী ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে কুপিয়ে, পিটিয়ে ও পাথর দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জের পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুরান ঢাকার রানী ঘোষ লেনে ভাঙাড়ির ব্যবসা করছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। আর পুলিশ অস্ত্র মামলা করে।

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

চাকসু ফলাফল ঘোষণা

   ​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল আজ, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঘোষণা করা হবে। ভোট গণনা চলছে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, রাত ১২টার আগেই ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। ​সর্বশেষ এবং সঠিক তথ্যের জন্য, আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ চ্যানেলগুলো অনুসরণ করতে পারেন। Countdown Timer