Skip to main content

মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড সাজানো নাটক: বেরিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য

 

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে পৈশাচিক কায়দায় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে দাবি করেছেন একাধিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ। গোয়েন্ধা সংস্থা বিএনপিকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণে বেরিয়ে আসছে ভয়ঙ্কর সব তথ্য।

তারা বলছেন, গোয়েন্দা সংস্থার মদদে মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডে বিএনপিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে যেভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রাতারাতি একযোগে সারাদেশে বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একই কায়দায় বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ তোলা হয়েছে, তাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় একই সময়ে যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যার ঘটনায় কেন সবাই নীরব ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট অপপ্রচারের পেছনে একটি ইসলামী ক্যাডারভিত্তিক দলকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

গত শুক্রবার বেলা দেড়টার দিকে খুলনার মহানগরের দৌলতপুর পশ্চিম মহেশ্বরপাশা এলাকায় থানা যুবদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করে ও রগ কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই নেতার নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।নিহত ওই নেতার নাম মাহবুবুর রহমান মোল্লা (৩৮)। তিনি দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি।ফেসবুকে এক লাইভে অব: লে: কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান মিটফোর্ডের ঘটনায় ডিজিএফআইকে সরাসরি দায়ী করেছেন। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, তারেক জিয়া আন্দোলন চলাকালে ওখানে (লন্ডন) কোনো একটা প্লান করছেন, ডিজিএফআই-এনএসআই সঙ্গে সঙ্গে এখান থেকে তা জেনে যেত। এটা (মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ড) বুঝার জন্য যথেষ্ট।

তিনি বলেন, পাথর মেরে একজনকে মারল। আর একজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার পুরো ভিডিও করল। এখানে একটা জিনিস খেয়াল করতে হবে, একটা স্বাভাবিকভাবে এরকম একটা ঘৃণ্য পরিস্থিতি ঘটছে, একজনকে লাঠি দিয়ে বা পাথর দিয়ে মারা হচ্ছে। সাধারণ জনগণ তখন কী করবে? ওরা তো পালিয়ে চলে যাবে। এটা কিন্তু ওই পরিস্থিতি না।

‘‘একজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরোটা ভিডিও করেছে এবং যে পজিশন থেকে পুরো ভিডিওটা করেছে, যারা পাথর মারছিল তাদের এটা বোঝার কথা। কারণ ভিডিওটা যে করছে সে ওর দিক থেকে এসে পাথর মারতেছে। যেখান থেকে ভিডিওটা করছে সে দিক থেকে গিয়ে পাথর মারছে। এটা পরিকল্পিত’’ বলেন কর্নেল মুস্তাফিজুর।

তিনি তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহে পূর্বে গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআই যে দক্ষতা দেখিয়েছে তা তুলে ধরেন। প্রশ্ন তোলেন, এই সংস্থাগুলি চায়লেই কি মিটফোর্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেন না? গোয়েন্দারা অস্থিরতা তৈরির জন্য ভারতীয় পরামর্শে এসব কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।বর্তমান পরিস্থিতি শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হলে বিএনপিকে লাগবে মন্তব্য করে সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, বিএনপিকে দুর্বল করতে পারলে কে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? ভারত লাভবান হবে। এসময় তিনি বিএনপির কৌশলগত কিছু ভুলের সমালোচনা করেন। তিনি পরামর্শ দেন, তারেক জিয়ার আশেপাশে যারা আছে তাদের সিকিউরিটি ভেরিফিকেশন (অন্য কারোর সাথে কোনো সংযোগ আছে কিনা যাচাই করা) করা দরকার। কারোর কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হচ্ছে কিনা?

তিনি জনগণের স্পন্দন বোঝার জন্য বিএনপির প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। দেশের ভেতর থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তারেক জিয়াকে বাংলাদেশে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন যে, বিএনপির তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত জেনারেল ওয়াকার এবং চুপ্পুকে অপসারণের জন্য সরকারের সাথে আলোচনা করা। কারণ তার দাবি মতে, তারা দুজনেই সুযোগ বুঝে বিএনপির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে।

এদিকে, এঘটনায় চাঞ্চল্যকর দাবি করে প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন বলেছেন, পরিকল্পিতভাবে দলীয় কোন্দলকে প্রচার করা হয়েছে চাঁদাবাজি হিসেবে। বিস্তারি তুলে ধরে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডটি আসলে যুবদলের (যুবদল) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে, স্থানীয় ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে।ইলিয়াস দাবি করেন, ডিজিএফআই রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে এবং জনমতকে নিয়ন্ত্রণ করতে এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত করার সাথে জড়িত। ডিজিএফআই ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই ঘটনার সংবাদ যেভাবে তৈরি করে দিয়েছে, তাদের প্রভাবিত মিডিয়াগুলো তা সেভাবেই ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামরিক বাহিনী থেকে ফ্যাসিস্ট দোসরদের এখনও না সরানোয় তীব্র ক্ষোভ করেন তিনি। বলেন, এরাই বিএনপির জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আলোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রবাসী লেখক পিনাকী ভট্যাচার্য্য মন্তব্য করেছেন, বিএনপির চান্দাবাজ দুর্বৃত্ত অংশকে আষ্কারা দিয়ে মাঠে নামিয়েছে ডিজিএফআই। ডিজিএফআইয়ের লক্ষ্যই ছিলো বিএনপির বেপোরোয়া অংশকে দিয়ে এমন অবস্থা তৈরি করা যেন বিএনপি ঘৃনিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিনত হয়। যেন বিএনপিকে এভাবেই একেবারে ধ্বংস করে দেয়া যায়।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা কি ডিজিএফআইয়ের গ্রান্ড ডিজাইনটা বুঝতে পারতেছেন? প্রশ্ন করেন, কে তাদের সাহস দিছে এইভাবে খুন করা যায়? কে খুনের সময়ে ক্যামেরায় নিখুঁত ভাবে ভিডিও করলো? চাদা না পেয়ে খুন করা একরকম। কিন্তু বীভৎসভাবে খুনের স্পেক্টাকল কার পরিকল্পনায়? অবাক লাগেনা? যেন ক্যামেরাম্যান জানতো এই ঘটনা ঘটবেই।

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

সহ' বাস শেষে বী' র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম কি বলে জেনে নিন

 স’হ’বাস শেষে বী’র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম যা বলছে সহবাসের সময় বীর্য স্ত্রীর গর্ভে না রেখে বাইরে ফেলার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির নাম ফিকহের ভাষায় “আজল”। এটি একটি পরিচিত প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় সাহাবিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। ফলে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে এবং বৈধ প্রয়োজনে আজল ব্যবহার করা জায়েয। তবে ইসলামে সন্তান না নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র দারিদ্র্য, জীবিকা অনিশ্চয়তা কিংবা সন্তান পালনের ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের রিজিকের দায়িত্ব আমি (আল্লাহ) নিয়েছি।” তবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হলে, সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বৈধ। এই ক্ষেত্রে আজল, কন্ডমসহ স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা যায়। স্থায়ীভাব...