Skip to main content

গর্ভাবস্থায় কত মাস পর্যন্ত সহবাস করা উচিৎ

 

সাধারণত, যদি গর্ভাবস্থা স্বাভাবিক এবং জটিলতামুক্ত হয়, তাহলে পুরো নয় মাস জুড়েই সহবাস করা নিরাপদ। আপনার গর্ভের শিশু জরায়ুর শক্তিশালী পেশী, অ্যামনিওটিক ফ্লুইড এবং সার্ভিক্সের শ্লেষ্মা প্লাগ দ্বারা সুরক্ষিত থাকে, তাই সহবাসের কারণে শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না।
তবে, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সহবাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিতে পারেন। যেমন:
 * যোনিপথে রক্তপাত বা স্পটিং: যদি গর্ভাবস্থায় কোনো কারণে যোনিপথে রক্তপাত হয়, তাহলে সহবাস এড়িয়ে চলা উচিত।
 * আর্লি লেবার বা মিসক্যারেজের ঝুঁকি: যদি আপনার আগে আর্লি লেবার (৩৭ সপ্তাহের আগে প্রসব) বা বারবার গর্ভপাতের ইতিহাস থাকে, তাহলে ডাক্তার সহবাস থেকে বিরত থাকতে বলতে পারেন।
 * জরায়ুমুখের দুর্বলতা (Cervical Incompetence): যদি জরায়ুমুখ নির্ধারিত সময়ের আগে খুলতে শুরু করে।
 * প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (Placenta Previa): যদি গর্ভফুল জরায়ুমুখকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ঢেকে রাখে।
 * পানি ভাঙা (Ruptured Membranes): যদি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড লিক করে বা পানি ভেঙে যায়, তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তাই সহবাস করা উচিত নয়।
 * একাধিক গর্ভধারণ: যদি আপনি যমজ বা তার বেশি সন্তান ধারণ করে থাকেন, কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেন।
 * যৌনবাহিত রোগ (STIs): যদি আপনার বা আপনার সঙ্গীর কোনো যৌনবাহিত রোগ থাকে, তাহলে কনডম ব্যবহার করা জরুরি।
গর্ভাবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে সহবাস:
 * প্রথম ত্রৈমাসিক (০-১৩ সপ্তাহ): এই সময়ে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, স্তনে ব্যথা ইত্যাদি কারণে অনেক নারীর সহবাসের ইচ্ছা কমে যেতে পারে। তবে, চিকিৎসকদের মতে, জটিলতা না থাকলে এই সময়ে সহবাস নিরাপদ।
 * দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (১৪-২৬ সপ্তাহ): এই সময়ে গর্ভাবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল থাকে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মায়েরা প্রথম ত্রৈমাসিকের সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পান। এই সময়টা সহবাসের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক হতে পারে।
 * তৃতীয় ত্রৈমাসিক (২৭ সপ্তাহ থেকে জন্ম পর্যন্ত): এই সময়ে পেটের আকার অনেক বড় হয়ে যায়, তাই কিছু সহবাসের অবস্থান অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে, যদি কোনো জটিলতা না থাকে, তাহলে প্রসবের আগ পর্যন্ত সহবাস করা নিরাপদ। কিছু চিকিৎসক মনে করেন, শেষ দিকে সহবাস প্রসবকে উৎসাহিত করতে পারে, তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার গর্ভাবস্থা যদি স্বাভাবিক থাকে এবং আপনার ডাক্তার যদি কোনো নিষেধ না করে থাকেন, তাহলে সহবাসে কোনো সমস্যা নেই। তবে, যদি আপনার কোনো অস্বস্তি বা উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। তিনি আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনা করে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। 

Countdown Timer

Comments

Popular posts from this blog

সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা

 সাংবাদিক ইলিয়াস এর জরুরি বার্তা কটি স্ট্যাটাস দিয়েছে,তার লেখা স্ট্যাটাস টি হুবাহু তুলে ধরা হলো..তিনি লিখেন, সামনে ১০ নম্বর ম’হাবি’পদ সংকেত!!!!একটা ‘১৫ মিনিটসের প্রোগ্রাম করতে অনেক কষ্ট হয়৷ ৫ তারিখের পর চাইলে অনেক ধান্দায় যুক্ত হতে পারতাম৷ ২-৪ লাখ সাবসক্রাইবারের চ্যানেল দিয়ে মানুষকে ব্লাকমেইল করে অনেকে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে৷ আমারও টাকা পয়সার সমস্যা হতো না কিন্তু সেটা না করে দেশের জন্যে কাজ করতে চেয়েছি৷৫ তারিখের পরপর প্রথম আলো-ডেইলী স্টার কিভাবে আলেমদের ধরে জ’ঙ্গি বানাতো সেই প্রমান দিয়েছি৷ পিলখানার ঘটনাকে কিভাবে প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার জঙ্গি তকমা দিয়েছে সেটা দেখিয়েছি তারপর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে কিভাবে প্রথম আলো জজ মিয়া নাটক সাজিয়েছে সেটার প্রমাণ দিয়েছি৷ পরিকল্পনা ছিলো এক এক করে হলি আর্টিজানসহ দেশের সবকটা জঙ্গি হামলার আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবো৷ কিন্তু সেটার আর প্রয়োজন মনে করছিনা৷ কারন এতসব প্রমান দেখানোর পরেও প্রথম আলো ডেইলি স্টারের বি’রুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নিউল্টো প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সব রাজনৈতিক দলের ( জামায়ত-বিএনপিসহ ছোট বড় কুকুরের ছা...

অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ...See more

  অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ” — এমন খবর সাধারণত হঠাৎ করে হয় না, এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ থাকে। বাংলাদেশে এরকম পরিস্থিতি সাধারণত নিচের কারণে দেখা যায়: সম্ভাব্য কারণ ধর্মঘট বা পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সড়ক আইন বা প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধ হলে বাস মালিক/শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কর্মসূচি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর হরতাল/অবরোধের সময় বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জ্বালানির দাম বা সরবরাহ সমস্যা ডিজেল/পেট্রোলের দাম বাড়লে বা সংকট হলে পরিবহন মালিকরা বাস নামাতে চায় না। সড়ক দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় কোনো দুর্ঘটনার পর বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে সাময়িকভাবে বাস বন্ধ রাখা হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন নির্বাচন, বড় ইভেন্ট, নিরাপত্তা ঝুঁকি) সরকার বাস চলাচল সীমিত করতে পারে। আপনার করণীয় স্থানীয় সংবাদ (টিভি/অনলাইন) চেক করুন বাস কাউন্টার বা পরিবহন অফিসে খোঁজ নিন বিকল্প হিসেবে ট্রেন, লঞ্চ বা রাইড শেয়ার (যদি চালু থাকে) বিবেচনা করুন 🔎 Reality Check “অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ” কথাটা অনেক সময় চাপ তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বাস্তবে বেশি...

সহ' বাস শেষে বী' র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম কি বলে জেনে নিন

 স’হ’বাস শেষে বী’র্য বাহিরে ফেললে কি গুনাহ হবে, ইসলাম যা বলছে সহবাসের সময় বীর্য স্ত্রীর গর্ভে না রেখে বাইরে ফেলার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির নাম ফিকহের ভাষায় “আজল”। এটি একটি পরিচিত প্রাকৃতিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, যার ব্যাপারে ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। হাদিস অনুযায়ী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সময় সাহাবিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, এবং তিনি তা নিষেধ করেননি। ফলে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে এবং বৈধ প্রয়োজনে আজল ব্যবহার করা জায়েয। তবে ইসলামে সন্তান না নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শুধুমাত্র দারিদ্র্য, জীবিকা অনিশ্চয়তা কিংবা সন্তান পালনের ভয় থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ও তোমাদের সন্তানদের রিজিকের দায়িত্ব আমি (আল্লাহ) নিয়েছি।” তবে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা, স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের মত অনুযায়ী গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হলে, সাময়িক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বৈধ। এই ক্ষেত্রে আজল, কন্ডমসহ স্বাস্থ্যসম্মত ও শরিয়তসম্মত উপায় অবলম্বন করা যায়। স্থায়ীভাব...